কমিউনিটি রেডিও : গ্রামীণ জনগণের কণ্ঠস্বর

কমিউনিটি রেডিও এক ধরনের বেতার সেবা যাতে একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ঐ এলাকার মানুষের পছন্দনীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে, কিন্তু রেডিও গুলো একটি শক্তিশালী সম্প্রচারকারী দলের তত্ত্ববধানে হয়ে থাকে।

নির্দিষ্ট ভৌগলিক সীমারেখার মধ্যে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালন করা কমিউনিটি রেডিও গুলো এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ ও তাদের জীবন কেন্দ্রিক সমস্যা ও সম্ভাবনা, চাওয়া- পাওয়া ইত্যাদির উপর অনুষ্ঠান নির্মানে গুরুত্ব দেয়া হয়।

সংবাদ, তথ্য বিনোদন, নাটক, জীর্বিকা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আলোচনা অর্থাৎ স্থানীয় সর্ব বিষয়ে প্রচার প্রক্রিয়ায় এলাকাবাসী সরাসরি অংশগ্রহণ করে।

স্থানীয় যে কোনো গুরুত্বপুর্ণ তথ্য সংবাদ এ কেন্দ্র থেকে স্থানীয় জনগণ পেয়ে থাকে। যার মাধ্যমে বিনোদন, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয় অনুষ্ঠানাদি প্রচার করে।

বাংলাদেশে তথ্য মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমবার কমিউনিটি রেডিও পরিচালনার অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়ার পর এক এক রেডিও এক এক সময় সম্প্রচার শুরু করে।

বর্তমানে দেশব্যাপী ১৭ টি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন রয়েছে। যার প্রত্যেকটিই ১৭ বর্গ কিলোমিটারের পরিধিতে সম্প্রচার করে থাকে, যেগুলোর অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা।

আরও ১৫টি কমিউনিটি রেডিওর প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

কমিউনিটি রেডিও’র ইতিহাস:

বিশ্বে কমিউনিটি রেডিও’র বয়স প্রায় ৬৫ বছর। ল্যাটিন আমেরিকায় এর উত্পত্তি। দারিদ্র্য ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এই রেডিও যাত্রা শুরু করে ১৯৪৮ সালে।

১৯৪৮ সালে বলিভিয়ায় ‘মাইনার্স রেডিও’ এবং কলম্বিয়ায় ‘রেডিও সুতাতেনজা’ কমিউনিটি রেডিওর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে অগ্রদূত।

সেই প্রেরণায় এখনো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই রেডিও স্থাপন হচ্ছে। মাইনার্স রেডিও মাক্সবাদী ও পুঁজিবাদী ব্যবস্থার দ্বন্দ্বের মাঝের শক্তি হিসেবে কাজ করত।

প্রচার করত খনি শ্রমিকদের উপযুক্ত কাজের পরিবেশ এবং শ্রম নিযুক্তির জন্য জনগণকে সংগঠিত করতে অনুষ্ঠান। শ্রমিকরাই অর্থ দিয়ে পরিচালনা ও সম্প্রচার করত এই রেডিও।

রেডিও সুতাতেনজা সাধারণ মানুষের কাছে এমন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে বছরে প্রায় ৫০ হাজার চিঠি আসতো। সুতাতেনজা প্রকৃত অর্থে জনগণের পরিচালনায় জনগণের রেডিও হয়ে উঠেছিল এটি।

কমিউনিটি রেডিওর বৈশিষ্ট্য ও উদ্দেশ্য

প্রতিটি সৃষ্টিরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার যার নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের কারনে অন্যদের থেকে তা স্বতন্ত্র রূপ ধারণ করে। কমিউনিটি রেওি’র ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়।

এফ এম বা বেতার কেন্দ্রের হতে পৃথক করার জন্য কমিউনিটি রেডিও’র ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

যা জানা থাকলে কমিউনিটি রেডিও সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকার পাশাপাশি সব ধরণের বিভ্রান্ত এড়ানো সম্ভব। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো।

  • প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মুখের ভাষায় অনুষ্ঠান প্রচার করা।
  • প্রান্তিক মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।
  • স্থানীয় জনগণের লোকজ জ্ঞান, সম্পদ ও সংস্কৃতি, আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো।
  • প্রান্তিক জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা ও তাদের মালিকানায় পরিচালিত।
  • এটি লোকালয় জনগোষ্ঠীর কল্যাণকে প্রাধান্য দেয়-বাণিজ্যিক স্বার্থকে নয়।
  • কমিউনিটি রেডিও এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ঠ্য হলো সেই লোকালয়ের মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ। এখানে সেই লোকালয়ের কৃষক তার কৃষির কথা বলতে পারছে, কবি তার লেখা কবিতা পাঠ করতে পারছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিটি রেডিও :

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে নেপালে সর্বপ্রথম এ ধরনের রেডিও চালু হয়৷ অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম কমিউনিটি রেডিও নীতিমালা করে ভারত, ২০০৬ সালে।

ভারতে বর্তমানে কমিউনিটি রেডিও এবং ক্যাম্পাস রেডিও আছে।

২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী ভারতে প্রায় ছয় হাজার এবং থাইল্যান্ডে প্রায় তিন হাজার কমিউনিটি রেডিও সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে চলেছে।

ইউনেসকোর সহযোগিতায় ২০০১ সাল থেকে দারিদ্র্যপীড়িত আফ্রিকার মালি, মোজাম্বিক, সেনেগাল, এশিয়ার কিছু অঞ্চল ও ক্যারিবিয়ায় কমিউনিটি রেডিও সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও :

২০১১ সাল হতে বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিওর কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭ টি কমিউনিটি রেডিওর সম্প্রচার চলছে।

  • ১৭টি রেডিওর তালিকা
  • লোকবেতার (বরগুনা)
  • রেডিও পদ্মা (রাজশাহী)
  • রেডিও মহানন্দা (চাঁপাই)
  • রেডিও বরেন্দ্র (নওগাঁ)
  • রেডিও চিলমারি (কুড়িগ্রাম)
  • রেডিও সারাবেলা (গাইবান্ধা)
  • রেডিও মুক্তি (বগুড়া)
  • রেডিও নলতা (সাতক্ষীরা)
  • রেডিও সুন্দরবন (খুলনা)
  • কৃষি রেডিও (পটুয়াখালী)
  • রেডিও মেঘনা (ভোলা)
  • রেডিও পল্লীকণ্ঠ (মৌলভীবাজার)
  • রেডিও সাগরদ্বীপ (নোয়াখালী)
  • রেডিও সাগরগিরি (চট্টগ্রাম)
  • রেডিও নাফ (কক্সবাজার)
  • রেডিও ঝিনুক (ঝিনাইদহ)
  • রেডিও বিক্রমপুর (মুন্সীগঞ্জ)
কমিউনিটি রেডিও ’র নীতিমালা:

কোনো নির্দিষ্ট এলাকার জনগোষ্ঠী তা শহরতলী, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল, দ্বীপ, উপজেলার জন্য হবে কমিউনিটি রেডিও।

সেই অঞ্চলের মানুষের বোধগম্যের জন্য আঞ্চলিক ভাষায় এর অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে।

অনুষ্ঠানসমূহ এমনভাবে পরিকল্পিত হবে যাতে তাদের আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান খুঁজে পায়, এমনকি তারা যে সব বিষয়ে বিনোদন পেতে অভ্যস্ত যেমন পল্লীসঙ্গীত, যাত্রা, পুঁথিপাঠ, গল্প, কাহিনীর আসর ইত্যাদিই প্রাচ্যের প্রাধান্য হবে।

এজন্য বাংলাদেশ সরকার কমিউনিটি রেডিওর সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। নিম্নে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

  • কমিউনিটি রেডিও পরিচালনা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে অবশ্যই অলাভজনক হতে হবে।
  • কমিউনিটি রেডিও’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কমপক্ষে পাঁচ বছর কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অবশ্যই থাকতে হবে।
  • কমিউনিটি রেডিও স্টেশনকে অবশ্যই নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্টভাবে কমিউনিটির লোকজনকে সেবা প্রদান করতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ধ্যান-ধারনার প্রতিফলন সমৃদ্ধ একটি পরিচালনা পরিষদ থাকবে।
  • সম্প্রচার অনুষ্ঠানসূচীতে কমিউনিটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সমাজ, নারীর অধিকার, গ্রামীণ ও এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন, পরিবেশ, আবহাওয়া ও সাংস্কৃতিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। এবং এতে অবশ্যই জনগোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে হবে।
  • সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আইনগত ভৈধতা থাকতে হবে এবং
  • সম্প্রচারের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার পর্বে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মূলধারার গণমাধ্যমের সুযোগ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার লাভ করবে।

বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের সুযোগ পেল কমিউনিটি রেডিও

কমিউনিটি রেডিওগুলোর মোট প্রচার সময়ের ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ রেখে কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনার সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে সরকার।

তথ্য মন্ত্রণালয় ‘কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১৭’ জারি করেছে।

টিকে থাকার জন্য শুরু থেকেই আয়ের উৎস হিসেবে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারের দাবি জানিয়ে আসছিল কমিউনিটি রেডিওগুলো।

‘কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনা নীতিমালা, ২০০৮’ এ বলা হয়েছে, ‘কমিউনিটি রেডিওতে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বিষয় সম্প্রচার, সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার ও বিজ্ঞাপন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।’

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় নির্বাহের জন্য দৈনিক মোট প্রচার সময়ের সর্বোচ্চ শতকরা ১০ ভাগ সময় বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে।

একই সঙ্গে কমিউনিটি রেডিওগুলোর লাইসেন্স দেয়া ও তদারকি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে নতুন নীতিমালায়।

নীতিমালার শর্ত ভঙ্গে লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিলের মতো শাস্তিও রয়েছে।

বাংলাদেশে কমিউনিটি রেডিও যাত্রা শুরু করে ২০১০ সালে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৭টি কমিউনিটি রেডিও অনুষ্ঠান প্রচার করছে। আরও ১৫টি কমিউনিটি রেডিওর প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোশাররফ হোসেন  বলেন, ‘আগের নীতিমালাটি ছিল ২০০৮ সালের। ১০ বছরে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।

আমরা দেখেছি কিছু বিজ্ঞাপন প্রচার করতে না দিলে তাদের ফাইন্যান্সিয়ালি টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।তাই নতুন নীতিমালায় কিছু সুযোগ তাদের আমরা দিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে নীতিমালাটি যতটুকু সংশোধন করা যায় ততটুকুই করেছি।’

তবে নীতিমালায় বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও দেয়া হয়েছে।

সেগুলো হচ্ছে- বিজ্ঞাপন উন্নয়ন ও জনসচেতনতামূলক হতে হবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, বিভিন্ন ধর্ম বা ধর্মমতাবলম্বীদের মধ্যে বিদ্বেষ বা বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে এমন অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না, অর্থায়নকারীরা সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বা অনুষ্ঠানমালার বিষয়বস্তু কিংবা স্টাইল এবং স্টেশনের নীতিমালার ব্যাপারে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান নির্দেশনা ও জারি করা আইন/বিধি/নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

সংশোধিত নীতিমালায় যা কিছু নতুন

কমিউনিটি রেডিও’র ধারণায় বলা হয়েছে- এটি হচ্ছে কল্যাণমূলক সম্প্রচার মাধ্যম যার মালিকানা, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় থাকে তৃণমূল পর্যায়ের জনগোষ্ঠী। মূলত অলাভজনক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

এর উদ্দেশ্য হচ্ছে কমিউনিটিকে সেবা দেয়া এবং স্থানীয় লোকজ, আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন-বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়া।

প্রান্তিক এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কমিউনিটি রেডিও স্থাপনে অগ্রাধিকার পাবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, সাময়িক লাইসেন্স পাওয়ার এক বছরের মধ্যে কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। না পারলে লাইসেন্স বাতিল হবে। তবে সরকার যুক্তিসঙ্গত মনে করলে এ সময়-সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে।

রেডিও স্টেশন স্থাপনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার কার্যক্রম চালু করতে হবে।

ব্যর্থ হলে সরকার জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। আগের নীতিমালায় এ ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না।

চূড়ান্ত লাইসেন্স প্রাপ্তির পর কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা সরকারের অনুমোদনে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সর্বোচ্চ আরও দুটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আগের নীতিমালায় দুই বছরের জন্য লাইসেন্স দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেখানে লাইসেন্স নবায়ন ফি’র বিষয়ে কিছু বলা ছিল না।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, প্রতি অর্থবছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন ফি ১০ হাজার টাকা।

প্রতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ৩০ দিন আগে নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে এবং কোনো কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে ৩ হাজার সারচার্জ পরিশোধ করে পরবর্তী অর্থ বছরে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

সরকার প্রয়োজনে এ সারচার্জ পুননির্ধারণ করতে পারবে। কোনো সংস্থা বা এলাকার নামে রেডিও স্টেশনের নামকরণ করা যাবে না।

লাইসেন্স বা চুক্তি সংক্রান্ত সরকারের কোনো পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে, বিটিআরসির তরঙ্গ বরাদ্দপত্রের যে কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে এবং এ নীতিমালার কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে সরকার কমিউনিটি রেডিও’র লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল করতে পারবে।

আগের নীতিমালায় এ ধরনের নিয়ম ছিল না। প্রত্যেকটি কমিউনিটি রেডিও স্টেশনের সম্প্রচারের ব্যাপ্তি হবে এর অবস্থানকে কেন্দ্র করে চতুর্দিকে ২৫ কিলোমিটার।

এজন্য সর্বোচ্চ ২৫০ ওয়াট সম্প্রচার শক্তির ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা যাবে।

আগের নীতিমালায় চতুর্দিকে ব্যাপ্তি ছিল ১৭ কিলোমিটার। আর ট্রান্সমিটারের শক্তি ছিল ১০০ ওয়াট।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী কমিউনিটি রেডিও স্থাপন, সম্প্রচার ও পরিচালনার জন্য তথ্য সচিবের নেতৃত্বে জাতীয় রেগুলেটরি কমিটি গঠন করা হবে।

বেতারের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রধান করে গঠন করা হবে ‘কারিগরি উপ-কমিটি’। এই কমিটি জাতীয় রেগুলেটরি কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন হবে।

বেতারের মহাপরিচালকের নেতৃত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি। আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হবেন স্থানীয় উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি।

ভৌগলিক অঞ্চলের ভিত্তিতে সারাদেশে কমিউনিটি রেডিওগুলোর মধ্যে দু’টি অ্যালায়েন্স বা নেটওয়ার্ক গঠিত হতে যাচ্ছে।

একটি দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত কমিউনিটি রেডিওগুলো এবং অপরটি দেশের উপকূলীয় কমিউনিটি রেডিওগুলোকে নিয়ে।

এর ফলে কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ আরও বাড়বে এবং রেডিওতে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

1 thought on “কমিউনিটি রেডিও : গ্রামীণ জনগণের কণ্ঠস্বর”

  1. গত 5/10/2019 আমি ভারতের সাবরুম শহর থেকে সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম এর সাগরগিরি রেডিওর অনুষ্ঠান শুনতে পেরেছি। ওদের ট্রান্সমিটার ক্ষমতা কত জানতে চাই। খুব ভালো লেগেছে ওদের অনুষ্ঠান।

Leave a Reply